এই প্রথম আমাদের হাইকোর্টের অনুমতি নিতে হল , শুভেন্দু অধিকারীর সভার আগে উত্তেজনা চ্যাংড়াবান্ধায়
শুভেন্দু অধিকারীর সভার আগে উত্তেজনা ছড়াল চ্যাংড়াবান্ধায়।
অস্থায়ী মঞ্চ লাগাতে পুলিশ বাধা দেয় বলে অভিযোগ বিজেপির। বিজেপির সাধারণ সম্পাদক দধিরাম রায়ের সঙ্গে পুলিশের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। আজ চ্যাংড়াবান্ধায় শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্কল্প যাত্রা রয়েছে। চ্যাংড়াবান্ধা বাইপাস থেকে VIP মোড় পর্যন্ত পদযাত্রা কর্মসূচি হবে বিরোধী দলনেতার। পুলিশ বাধা দেওয়ার পর হাইকোর্ট থেকে কর্মসূচির অনুমতি পেয়েছেন বিরোধী দলনেতা।
শুভেন্দু অধিকারীর সংকল্প যাত্রা চ্যাংড়াবান্ধা বাইপাস থেকে ভিআইপি মোড় পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার জুড়ে হওয়ার কথা। পাশাপাশি তাঁর একটি সভাও রয়েছে। তারজন্য একটি অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি হয়েছে একটি ট্রাকের ওপর। বিজেপির অভিযোগ, যখন মঞ্চ বানানোর জন্য ট্রাকটিকে ভিআইপি মোড় সংলগ্ন এলাকায় রাস্তার কাছে রাখা হয়েছিল, সেই সময় পুলিশ বাধা দেয়। পুলিশের দাবি, সেখানে ট্রাক রাখা যাবে না। হাইকোর্ট ট্রাফিক সচল রাখার কথা বলেছে। তাই সেখান থেকে ট্রাকটি সরিয়ে দেওয়ার কথা বলেন এখানকার পুলিশ আধিকারিকরা। যদিও এটা নিয়ে বিজেপি আপত্তি জানায়। বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলার সাধারণ সম্পাদক দধিরাম রায়ের সঙ্গে পুলিশের বচসা শুরু হয় এবং উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। পুলিশ অফিসার বলেন, 'আপনি সরাবেন না তো ?' তখন বিজেপি নেতা উত্তরে জানান, 'না, সরাব না।' তিনি বলেন, 'এই প্রথম আমাদের হাইকোর্টের অনুমতি নিতে হল।' তখন পুলিশ অফিসার বলেন, 'ওটা আপনার ব্যাপার।' জবাবে বিজেপি নেতা বলেন, 'আপনার বাপের জমিদারি নাকি ? আপনি মিটিং করতে দেবেন না !' তখন পুলিশ অফিসার বলেন, 'জমিদারি কারো নয়। কেন করতে দেব না ?' বিজেপি নেতা পাল্টা বলেন, 'এখানে মিটিং হবে।' উত্তরে পুলিশ বলেন, 'করুন।' সুর আরও চড়িয়ে বিজেপি নেতা বলেন, 'বেশি কিছু করলে মেইন রোড বন্ধ করে দেব। আপনার যা করার আছে আপনি করবেন।'
শুভেন্দু অধিকারীর সভার সময় দেওয়া হয়েছিল ১টা নাগাদ। তিনি বীরপাড়া থেকে চ্যাংড়াবান্ধায় আসবেন। তাঁর আসতে দেরি হতে পারে। ২টোর দিকে তিনি ঢুকতে পারেন বলে জানা যাচ্ছে। কিন্তু, তার আগে যখন বিজেপি কর্মীরা সেখানে ধীরে ধীরে উপস্থিত হচ্ছেন এবং বিজেপি নেতৃত্ব অস্থায়ী মঞ্চ বাড়ানোর কাজে হাত দিচ্ছেন, সেই সময় অভিযোগ, পুলিশ তাতে বাধা দেয় এবং ট্রাকটিকে সেখানে রাখতে দিতে অস্বীকার করে। যার ফলে উত্তেজনা ছড়ায়। বিজেপির সরাসরি অভিযোগ, পুলিশ সবরকমভাবে অসহযোগিতা এবং চক্রান্ত করছে যাতে বিরোধী দলনেতার সংকল্পযাত্রা না হতে পারে। ইতিমধ্যে বিজেপি অভিযোগ করেছিল, বারবার আবেদন করেও পুলিশ প্রশাসনের অনুমতি পায়নি তারা। বাধ্য হয়ে তারা হাইকোর্টে যায় এবং সেখান থেকে অনুমতি পেয়েই এই সভা করবে। তারপরেও পুলিশ প্রশাসনের অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছে তারা। যদিও পুলিশের দাবি, যা অনুমতি রয়েছে সেই হিসাবেই সভা হবে। তবে, ট্রাফিকের অসুবিধা হবে, সেই কথা মাথায় রেখেই ট্রাকটি রাখতে বাধা দেওয়া হয়েছিল।